ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ঢাকায় শুরু তিন দিনের আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা

বিশ্বের ২০টি দেশের পর্যটন সংস্থা ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। পর্যটন খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করাই এবারের আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’।আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টলে অংশ নিচ্ছেন ২২০টির বেশি প্রদর্শক। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে নিজেদের সেবা ও পর্যটন পণ্য তুলে ধরছে বিমান সংস্থা, হোটেল, ট্যুর অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।তিন দিনের আয়োজনে ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ক্রেতা, ২ হাজার ৫০০-এর বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থী এবং ৬০ হাজারের বেশি সাধারণ দর্শনার্থীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।এবারের মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের পর্যটন সংস্থা ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে টোয়াব।আন্তর্জাতিক এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটনসচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।তাঁর মতে, বিটিটিএফের মতো আয়োজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনকে পরিচিত করার পাশাপাশি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনচর্চা সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।এ খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, আগের ১৩টি আয়োজনের অভিজ্ঞতায় বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।তাঁর আশা, এবারের আয়োজন দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এয়ারলাইনস পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট।আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং এফবিসিসিআই।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী।আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) শেষ হবে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন।শুক্রবার ও শনিবার প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

ঢাকায় শুরু তিন দিনের আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা