ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফের এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ

বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) না পাওয়ার তীব্র অভিযোগের মধ্যেই এলপিজির বিভিন্ন স্তরের চার্জ ও ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউশন ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে মুনাফা বা চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল কমিশন। তবে মাঠপর্যায়ে সরকারি এই নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্রাহকদের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই আমদানি ও বাজারজাতকারী কোম্পানি, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে নতুন করে পরিচালন ব্যয় ও কমিশন বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব অনুযায়ী, এলপিজি পরিচালনাকারীরা বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে বিদ্যমান ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ডিস্ট্রিবিউটরদের চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। এ ছাড়া কমিশন হিসেবে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে ডিস্ট্রিবিউটররা বিদ্যমান ৫০ টাকার পরিবর্তে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকার পরিবর্তে ৭০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। বিইআরসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুনানিতে অংশীজনদের দেওয়া যুক্তি, ব্যয় কাঠামোর তথ্য ও প্রস্তাবগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, শুনানির আয়োজন মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বৃদ্ধি পাওয়া নয়। এদিকে পরিবহন ব্যয়, গুদামভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে এর আগে দেশব্যাপী দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। পরবর্তীতে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের পর এবং বিইআরসির গণশুনানির আশ্বাসে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। সারাদেশে সরবরাহ সংকট এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের তদন্ত ও বাজার তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ২৯ অক্টোবরের গণশুনানি শেষে নতুন ব্যয়ভার সমন্বিত হলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফের এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ