মারধর ও জোর করে পদত্যাগের মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন
বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।সালমান এফ রহমানের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। মামলার অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।[BANGVIEWS-POST:4390]২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। পরে মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। প্রতিবেদনে সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।মামলার আসামিদের মধ্যে আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সালমান এফ রহমান, মো. মনিরুল ইসলাম খান ও খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন। অপর আসামি সাজ্জাদ হোসেন পলাতক।গত ১৭ আগস্ট পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সালমান এফ রহমানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআইএফএফএলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এস এম ফরমানুল ইসলামের ওপর সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল।[BANGVIEWS-POST:4389]এর মধ্যে তিস্তা সোলার প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার চাপ ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ কোটি টাকার জিরো-কুপন বন্ডে বিনিয়োগ এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত ছাড়া বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।তবে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এসব সুবিধা দিতে তৎকালীন সিইও রাজি হননি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের ৮০তম বোর্ড সভা চলাকালে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফরমানুল ইসলামের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ আনা হয়।এ ছাড়া তার অফিসিয়াল মুঠোফোনের সিম বন্ধ করে দেওয়া, ই-মেইল ব্যবহারে বাধা, গাড়ির চাবি নিয়ে নেওয়া এবং দুদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও মামলায় রয়েছে।
মামলাটিতে জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মারধর, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে পিবিআই। তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে আদালতে হাজির না হওয়ায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।