যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তের আগে যে বার্তা দিয়েছিলেন পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টিতে একটি ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ (প্রাইভেট বিজনেস জেট) বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ আরোহী ৯ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে শেষ কথোপকথনে পাইলট অত্যন্ত ভয়ার্ত কণ্ঠে জানিয়েছিলেন, তাঁদের উড়োজাহাজটি খাড়াখাড়িভাবে তীব্র গতিতে মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে।স্থানীয় সময় রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকারস এলাকায় ব্যস্ত সড়কের পাশে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ছিল বোম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট-৬০ (Learjet 60) মডেলের একটি বিমান। এটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল।বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে উড়োজাহাজটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থান করছিল। মাঝআকাশে থাকা অবস্থায় পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানান, বিমানের ডানায় বরফ জমতে শুরু করেছে এবং বায়ুমণ্ডলীয় তীব্র ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) ফলে উড়োজাহাজটি হঠাৎ প্রায় ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাইলট বিমানটিকে আরও ২ হাজার ফুট ওপরে (৩৭ হাজার ফুটে) নিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন।তবে এর পরপরই উড়োজাহাজটি আচমকা নিচে নামতে থাকে এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারায়। ফ্লাইট রেকর্ডিং থেকে পাওয়া তথ্যে শোনা যায় পাইলট চিৎকার করে বলছেন, ‘আমরা প্রতি মিনিটে ৮ হাজার ফুট নিচে নামছি। মে ডে, মে ডে—আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট নিচে নামছি।’ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পতনের বেগ বেড়ে মিনিটে ২০ হাজার ফুটে পৌঁছায় এবং অতিরিক্ত গতিসীমা অতিক্রমের সংকেত বেজে ওঠে। শেষ মুহূর্তে তিনি নিশ্চিত করেন, ‘আমরা মাটিতে বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি।’ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে বিমানটির নিচে নামার গতিবেগ চরম পর্যায়ে পৌঁছে প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ফুট স্পর্শ করেছিল। একপর্যায়ে বিমানটি ডান দিকে মারাত্মকভাবে কাত হয়ে মাটিতে আঘাত হানে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশাল আগুনের গোলার সৃষ্টি হয়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে সড়কের পাশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয় এবং এলাকাটি কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি নিশ্চিত করেছেন, বিমানে থাকা ৯ জনের কেউই জীবিত নেই। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)।ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানিয়েছেন, বিমানটি জনবহুল সড়কের ঠিক পাশে আছড়ে পড়লেও মাটিতে থাকা কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দুর্ঘটনাস্থল সংলগ্ন একটি মোবাইল হোম পার্ক থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস