রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলায় মিয়ানমারের বক্তব্যের প্রতিবাদ ঢাকার
রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে মিয়ানমারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও এই পরিচয় স্বীকার করেছে।মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।[BANGVIEWS-POST:3991]বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ১৫ আগস্টের বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ওই বিবৃতিতে দেওয়া অনেক তথ্য ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে দেওয়া তথ্য সঠিক নয়।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘের ব্যবস্থার অধীনে নিবন্ধিত তথ্যেই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে।রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিয়েও আপত্তি জানায় ঢাকা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়, বরং তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও এই পরিচয় স্বীকার করেছে।একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সম্মত ব্যবস্থার আওতায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। যাচাইয়ের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নতুন রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়।বাংলাদেশ জানায়, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ চলছে। আগের ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের হিসাবের বাইরে নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে।[BANGVIEWS-POST:3990]বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ তার সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে যাচাই করা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে যাচাই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের অঙ্গীকারের কথা জানান।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন।