২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের কোটা কত, তালিকায় অবস্থান কোথায়?
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের পরম আকাঙ্ক্ষার নাম হজ। প্রতি বছরের মতো ২০২৭ সালেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি পবিত্র কাবা শরিফে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে সমবেত হবেন। মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাতসহ বিভিন্ন বিবেচনায় সৌদি আরবের নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীর সংখ্যা নির্ধারিত হয়। ২০২৭ সালের ঘোষিত হজ কোটার তালিকায় বাংলাদেশ ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নিয়ে বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বলে আপনার দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আগের সর্বোচ্চ কোটার তুলনায় বাংলাদেশের জন্য এবার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজ কোটায় শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির জন্য ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের কোটা ১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০ জন। তৃতীয় অবস্থানে ভারত পেয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৫ জনের কোটা। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইরানের জন্য বরাদ্দ ৮৭ হাজার ৫৫০ জনের।৫ম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এরপর নাইজেরিয়া ৫০ হাজার, ইথিওপিয়া ৪৩ হাজার, আলজেরিয়া ৪১ হাজার ৩০০, তুরস্ক ৩৭ হাজার ৭৭০ এবং মিসর ৩৫ হাজার ৩৭৫ জনের কোটা নিয়ে তালিকার ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম অবস্থানে রয়েছে।তবে অতীতের হিসাবের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের হজ কোটায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের হজ কোটা দেওয়া হয়েছিল এবং ওই বছর নির্ধারিত পুরো কোটা পূরণ হয়েছিল। এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হজ কোটা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।এরপর করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে স্বাভাবিকভাবে হজ কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ২০২২ সালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সীমিত পরিসরে বাংলাদেশ ৬০ হাজার হজযাত্রীর কোটা পায়। ওই বছর বাংলাদেশ থেকে ৫৯ হাজার ৯১৬ জন হজ পালন করেন।২০২৩ সালে মহামারি-পরবর্তী সময়ে আবারও বাংলাদেশ ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা ফিরে পায়। সে বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন হজ পালন করেন।এরপর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮৫ হাজার ২৫৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৮৭ হাজারের কিছু বেশি মানুষ হজ পালন করেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মতো ২০২৭ সালেও বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।২০১৭ ও ২০২৩ সালের ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের সর্বোচ্চ কোটার সঙ্গে ২০২৭ সালের ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা তুলনা করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৬৯৮ জন। অর্থাৎ সর্বোচ্চ কোটার তুলনায় এবার বাংলাদেশের বরাদ্দ প্রায় ৩৮ শতাংশ কম।ফলে বিশ্বের শীর্ষ মুসলিম জনসংখ্যার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশ ২০২৭ সালের হজ কোটায় পঞ্চম অবস্থানে থাকলেও, দেশের আগের সর্বোচ্চ কোটার তুলনায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।