ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নতুন প্রজন্মের বই পড়ার অভ্যাস গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, পাঠচক্র ও বই পড়ার প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের পরিচয় আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন আলোচনার বিষয়গুলো সাংবাদিকদের জানান।তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে বই পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালুর সম্ভাবনা বিবেচনা করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পাঠচক্র ও বই পড়ার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।সভায় দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা হয়তো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি।’তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।’মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়।এ ছাড়া ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ও প্রস্তাবিত কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।সভায় জানানো হয়, আসন্ন শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতির আয়োজন, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড় ও পাপেট শো অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।বৈঠকে জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।এ সময় দেশের শিল্পকলা একাডেমিগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।’প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সভায় উপস্থিত প্রত্যেক কর্মকর্তার নিজস্ব যোগ্যতা ও দক্ষতা রয়েছে। সেই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখতে হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।এ ছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

নতুন প্রজন্মের বই পড়ার অভ্যাস গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা