ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলেমদের অংশগ্রহণ চান নুর

হাফেজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন শুধু ইমামতি কিংবা খতিবের দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষা, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের উচ্চপদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অবদান রাখতে পারেন। আলেমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে যুক্ত হলে দেশ ও সমাজ পরিচালনায় ন্যায়, সততা এবং জনকল্যাণের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পাবে।বুধবার রাতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের অধীনে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।[BANGVIEWS-POST:2771]নুরুল হক নুর বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হতে হবে। প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ অর্জন করলে দেশে এবং বিদেশে তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আলেম ও ধর্মীয় শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের সম্মানজনক চাকরির চাহিদা রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে কাজ করছে।প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতির খবর জানানো সম্ভব হবে।দিনব্যাপী আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের প্রধান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মাওলানা মুফতি মুসা খান বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বোর্ডের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2767]তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটন হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।গণমাধ্যমের প্রতি তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।মুফতি মুসা খান আরও বলেন, নুরানি মাদরাসা, মক্তব, ইসলামিক স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনগুলো শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে ভূমিকা রাখছে। দেশের প্রচলিত আইন মেনে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানকে নিরুৎসাহিত না করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া উচিত।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুলাহিল বাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ গোলাম রাব্বানী এবং আন্তর্জাতিক ক্বারি আহমদ বিন ইউসুফ আল-আজহারী। ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশ ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বোর্ডটির অধীনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় এক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদান করা হয়।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলেমদের অংশগ্রহণ চান নুর