গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া সরকারি নির্দেশনায় দোকান, মার্কেট ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যেত।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে পারবে। তবে হাসপাতাল, ফার্মেসি ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।[BANGVIEWS-POST:4095]রয়টার্স জানায়, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে জাতীয় গ্রিডে পিক আওয়ারে কয়েকশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।জ্বালানি সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা। ইরান সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং এলএনজির দাম বেড়েছে।বাংলাদেশ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশের জ্বালানি খাতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে।[BANGVIEWS-POST:4088]রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করে।বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশকে বেশি খরচে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।