ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নৌ ও বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের পরিবর্তে পেশাগত যোগ্যতা, সততা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং নিয়োগ ও পদোন্নতির উপযুক্ততা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি নৌ ও বিমান বাহিনী অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।[BANGVIEWS-POST:4318]দেশের প্রয়োজনে দায়িত্ব পালনে নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের অবদানের জন্য বাহিনী দুটির প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতার অবদানও স্মরণ করেন তিনি।অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত স্থাপনা পরিদর্শন করেন।প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের (এডিএসআই) উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। পরে নতুন ব্যবস্থার বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।এরপর তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে যুদ্ধবিমানের শত্রুবিমান প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং চট্টগ্রাম থেকে ড্রোনের সরাসরি ভিডিও ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের দৃশ্য দেখেন।প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন। সেখানে বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল বা ড্রোন প্রদর্শন করা হয়।[BANGVIEWS-POST:4316]প্রদর্শিত প্রযুক্তির মধ্যে ছিল কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, ভিটোল এবং অন্যান্য আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।বিমান বাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগকে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নৌ ও বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী