ঢাকা    শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইউরোপে আশ্রয় আবেদন কমলেও বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়েছে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম এবং ২০২১ সালের পর বছরের প্রথমার্ধে সর্বনিম্ন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগানিস্তানের নাগরিকরা। দেশটির প্রায় ৩৯ হাজার নাগরিক আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। আর তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ।২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩২৭টি। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২১টিতে। অর্থাৎ এক বছরে আবেদন বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।তবে আবেদন বাড়লেও বাংলাদেশিদের আবেদন অনুমোদনের হার খুবই কম। ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের প্রথম ধাপের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার ছিল ৫ শতাংশের নিচে।ইইউএএ জানিয়েছে, যেসব দেশের আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেসব দেশের আবেদন দ্রুত যাচাই করা হচ্ছে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, মিসর, ভেনেজুয়েলা ও তুরস্কের মতো দেশের আবেদনগুলো বিশেষ দ্রুত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।ইইউ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন পেয়েছে ফ্রান্স, যেখানে প্রায় ৬৯ হাজার আবেদন জমা হয়েছে। এরপর রয়েছে ইতালি ও স্পেন। জার্মানিও প্রায় ৫৫ হাজার আবেদন পেয়েছে।এদিকে জুনের শেষে ইইউ অঞ্চলে প্রথম ধাপে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার আশ্রয় মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। সব ধরনের প্রশাসনিক ও বিচারিক ধাপ মিলিয়ে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার।অপেক্ষমাণ মামলার তালিকাতেও বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ধাপেই প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশির আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ইউরোপে আশ্রয় আবেদন কমলেও বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়েছে