বসুন্ধরায় অবৈধ ভিওআইপি চক্র, গ্রেপ্তার ৪
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।শনিবার রাতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরার একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় অভিযান চালায়। রোববার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম।[BANGVIEWS-POST:2978]গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঝর্না চাকমা জিয়ানা এবং চীনা নাগরিক লিউ হুই জাং, ওয়ে ইউজি ও শে ই রান।অভিযানে প্রায় ১০ হাজার সক্রিয় সিমকার্ড, ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা সিমের মধ্যে প্রায় চার হাজার একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অপারেটরের।ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঝর্না চাকমা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর দুটি ফ্লোর চীনা নাগরিকদের কাছে সাবলেট দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি এবং অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশ জানায়, চক্রটি চাকরি, ঘরে বসে আয় ও বিশেষ অফারের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠাত। বার্তার সঙ্গে থাকা লিংকে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীরা প্রতারণার ফাঁদে পড়তেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে একটি ডিভাইসের সঙ্গে একাধিক বাহ্যিক সিম স্লট যুক্ত করে একই সঙ্গে ১২টি সিম পরিচালনা করা হতো। এতে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত বলে জানিয়েছে ডিবি।[BANGVIEWS-POST:2977]প্রাথমিক তদন্তে চক্রটি অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বলে দাবি করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তবে এ অর্থ ইতোমধ্যে আদায় করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তে স্পষ্ট হবে।
জব্দ করা বিপুলসংখ্যক সিম কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এগুলো বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।