নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ও পাথর ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি আরও বেড়েছে। নেপালে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ফলে দুই অঞ্চল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৯১ জনের মৃত্যু এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতে নিখোঁজ ৫৪৬ জনের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি। তাদের মধ্যে ১০৪ জন নেপালি, ৪৯ জন ভারতীয়, ৩৩ জন লাটভিয়ার, ১৮ জন মার্কিন এবং ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। [BANGVIEWS-POST:4734]দুর্যোগের পঞ্চম দিনেও নেপাল ও তিব্বতের দুর্গম এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপালে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। সবচেয়ে কঠিন উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি চলছে রাসুয়ার আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায়। নেপালি সেনাবাহিনীর ধারণা, সেখানে কাদায় ভরে যাওয়া একটি টানেলের ভেতরে শতাধিক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, সরু গিরিখাত ও ঘন কাদার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে নতুন করে বন্যার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমেছে। হিমবাহ ধসের পর তৈরি হওয়া হ্রদটির পানির স্তর সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ১০ মিটার কমেছে বলে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সিসিটিভি। তবে উদ্ধারকারীরা সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকির বিষয়ে এখনো সতর্ক রয়েছেন।নেপাল সরকার উদ্ধারকাজে বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক সহায়তাও নিচ্ছে। টানেলে উদ্ধার অভিযান, জীবিত মানুষ শনাক্তের প্রযুক্তি, দ্রুত ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষা এবং মরদেহ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে বিদেশি সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ভারতের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছে এবং চীন থেকেও একটি দল আসার কথা রয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4733]দুর্যোগে নেপালের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে, যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান। গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের উঁচু হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। বরফ, পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে নিচে নেমে এসে জনপদ, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণেও হিমবাহের নিচের শিলাস্তরের বড় অংশ ধসে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সূত্র: এপি