যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আঘাত হানল হারিকেন ইসাইয়াস
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ডেসটিন শহরের কাছে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী হারিকেন ইসাইয়াস। ঘণ্টায় ১৬৯ কিলোমিটার (১০৫ মাইল) বেগে বাতাস নিয়ে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়টি ক্যাটাগরি-২ মাত্রার। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও তীব্র বাতাসের সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়টি ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল এলাকা পেরিয়ে অ্যালাবামার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।শনিবার (১০ অক্টোবর) ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্যের বরাতে সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের আটলান্টিক মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা প্রথম ক্যাটাগরি-২ হারিকেন এটি।ঝড়ের প্রভাবে ফ্লোরিডার সান্টা রোসা বিচ এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৬ কিলোমিটার (১১৬ মাইল) রেকর্ড করা হয়েছে। ইসাইয়াস ঘণ্টায় প্রায় ৩১ কিলোমিটার বেগে উত্তর দিকে অ্যালাবামার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।ঘূর্ণিঝড়টির আঘাতে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামা মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার কথা জানানো হয়েছে। এদিকে উপকূলীয় এলাকায় ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ফ্লোরিডা ও জর্জিয়ার কিছু এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও টর্নেডোর সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।ফ্লোরিডার এস্কেম্বিয়া কাউন্টির প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝোড়ো বাতাসে বিভিন্ন বস্তু উড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্যোগের কারণে একাধিক সংগীত উৎসব বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্ক সার্ভিস বেশ কয়েকটি উদ্যান বন্ধ ঘোষণা করেছে।ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ঝড়টির প্রভাবে প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। স্থলভাগে প্রবেশের পরও বিপজ্জনক আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।দুর্যোগ মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যালাবামার গভর্নর কে আইভির আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যটির কয়েকটি কাউন্টির জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর আঘাত হানা হারিকেন মিল্টনের পর ইসাইয়াসকে মার্কিন মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝড়টির প্রভাবে ফ্লোরিডা ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জলোচ্ছ্বাস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।সূত্র: সিএনএন