যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ছোট বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ৯
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ এলাকায় একটি ছোট বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানের চালক (পাইলট) সহ আরোহী ৯ জনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় মহাসড়ক দিয়ে চলমান একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ড্যাশবোর্ড ক্যামেরায় (ড্যাশক্যাম) বিমানটি তীব্র বেগে মাটিতে আছড়ে পড়ার রোমহর্ষক দৃশ্য সরাসরি ধরা পড়েছে।স্থানীয় সময় রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পাম বিচের ক্রেস্টহেভেন এলাকার নিকটবর্তী মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি (AP) নিশ্চিত করেছে।প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিমানটি আকাশ থেকে প্রায় খাড়াখাড়িভাবে অনেকটা উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ভূমিতে আঘাত হানে। মাটিতে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে গোটা বিমানটিকে একটি বিশালাকার আগুনের গোলা গ্রাস করে নেয়।দুর্ঘটনার পূর্বমুহূর্তে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের শেষ কথোপকথন থেকে বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পূর্বাঞ্চলের দিকে উড়ে যাচ্ছিল। মাঝআকাশে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান যে বিমানটি চরম বায়ুমণ্ডলীয় ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) মুখে পড়েছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজের বহির্ভাগে পাতলা বরফ জমে যাওয়া এবং শক্ত শিলাবৃষ্টির মতো বরফ পড়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বরফ জমার ঝুঁকি এড়াতে তিনি বিমানটিকে আরও দুই হাজার ফুট উঁচুতে (৩৭ হাজার ফুটে) নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন।তবে এর কয়েক মুহূর্ত পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিমানটি আকস্মিকভাবে খাড়াখাড়ি নিচে নামতে শুরু করে। চরম আতঙ্কিত কণ্ঠে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান, উড়োজাহাজটি প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট নিচে নেমে আসছে। এরপরের কয়েক সেকেন্ডে পতনের গতি নাটকীয়ভাবে বেড়ে মিনিটে ২০ হাজার এবং পরবর্তীতে ৩০ হাজার ফুটে পৌঁছায়, যা সাধারণ আকাশযানের নিরাপদে নিচে নামার স্বাভাবিক গতির বহু গুণ বাইরে। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পাইলট জরুরি ‘মে ডে’ (Mayday) বার্তা ঘোষণা করে জানান যে বিমানটি কোনোভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না এবং তা বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে। এর পরপরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে মাটিতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, বিমানটি যে মহাসড়কে আছড়ে পড়েছে, তার সামান্য দূরত্বেই ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা ছিল। বিমানটি কোনো বাড়িঘর কিংবা চলমান যানবাহনের ওপর সরাসরি আছড়ে না পড়ায় স্থলভাগে বড় ধরনের অতিরিক্ত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।সূত্র: এপি