গাজার ধ্বংসস্তূপ সরালে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ নষ্টের শঙ্কা
ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। এতে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্তের সুযোগও নষ্ট হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।সোমবার এক বিবৃতিতে আলবানিজ বলেন, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষের মরদেহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যমান প্রমাণ থাকতে পারে। এর মধ্যে গণহত্যার অভিযোগ তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামতও থাকতে পারে।[BANGVIEWS-POST:5372]ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাজায় এখনো ১০ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।আলবানিজ জানান, একাধিক সূত্র থেকে তিনি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছেন যে গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোও যুক্ত রয়েছে। তবে এসব কোম্পানির নাম প্রকাশ করেননি তিনি।তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপকে শুধু নির্মাণবর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এর মধ্যে মানুষের মরদেহ, অপরাধের ঘটনাস্থলের আলামত এবং যুদ্ধের সময় কী ঘটেছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকতে পারে।এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হয়। জাতিসংঘের হিসাবে, দুই বছরের সংঘাতে গাজায় প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ ও বর্জ্য জমেছে। এসব ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে।[BANGVIEWS-POST:5371]গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৪৫৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ৩২৯ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে।ফ্রান্সেসকা আলবানিজ ২০২২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে নিয়োগ পান। তবে তিনি জাতিসংঘের হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেন না।সূত্র: শাফাক নিউজ