১৮ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, “যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আগামী দিনে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ তথ্য জানিয়েছেন।[BANGVIEWS-POST:1938]উপ-প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন।দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে এবং আগামীতে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। দেশের কোনো জনগোষ্ঠীকেই আলাদা করে দেখেন না।বৈঠকে সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় ব্যবহারের দাবি জানানো হয়।এ ছাড়া আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, বিভিন্ন প্রকল্প ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বসতি উচ্ছেদ বন্ধ এবং সহজ শর্তে ঋণসুবিধা দেওয়ার দাবি তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস করে যাওয়া হয়েছে। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার না হলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ দেশের মানুষের অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো।তিনি বলেন, “আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেসব সমস্যা সমাধানযোগ্য, সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।”দেশে বিরাজমান সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে এসব সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা ছিল। সে সময়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এখন সমস্যার চাপ এতটা বাড়ত না।[BANGVIEWS-POST:1937]তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের অনেক গল্প শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এখন মানুষের বিপুল প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। সরকার দেশকে সংকট থেকে বের করে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের শাসনামলে একটি প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার এসব হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধিকাংশই কার্যকর সেবা দিতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রং উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি কর্মসূচিও চলমান রয়েছে।সূত্র: বাসস