বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফার ৯৫ কোটি টাকার তহবিলে বাংলাদেশ
ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কাছ থেকে নিয়মিত উন্নয়ন সহায়তা পায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৩–২০২৬ বিশ্বকাপ চক্রে প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য সর্বোচ্চ ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৯৫ কোটি টাকার বেশি।[BANGVIEWS-POST:2084]অলাভজনক ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপ থেকে টেলিভিশন সম্প্রচারস্বত্ব, পৃষ্ঠপোষকতা ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করে। এই অর্থ শুধু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয় না; বিশ্বব্যাপী ফুটবলের প্রসার এবং কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি অংশ সদস্য দেশগুলোকে দেওয়া হয়।ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের একটি বাফুফে। পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশও নিয়ম অনুযায়ী বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন তহবিলের অংশীদার।এই অর্থ দেওয়া হয় ফিফার বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প ‘ফিফা ফরোয়ার্ড ৩.০’-এর অধীনে। ফিফার আর্থিক নির্দেশিকা ও বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের চক্রে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন সর্বোচ্চ ৮ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে।তহবিলের আওতায় প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়। চার বছরে এ খাতে একটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন ডলার পেতে পারে। বাকি ৩ মিলিয়ন ডলার দীর্ঘমেয়াদি ও নির্দিষ্ট ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়।[BANGVIEWS-POST:2085]প্রকল্পভিত্তিক অর্থ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, যুব একাডেমি নির্মাণ, তৃণমূল ফুটবলের প্রসার এবং নারী ফুটবলের উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়।তবে পুরো বরাদ্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। অর্থ পেতে বাফুফেকে ফিফার নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদন নিতে হয়। এ জন্য প্রকল্প পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও বিস্তারিত বাজেট ফিফার কাছে জমা দিতে হয়। অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হয়।পরিচালন ব্যয়ের অর্থও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে কিস্তিতে দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরীক্ষকের মাধ্যমে প্রতি বছর তহবিলের ব্যবহার যাচাই করা হয়।ফলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও ফিফার সদস্য এবং বৈশ্বিক ফুটবল কাঠামোর অংশ হিসেবে উন্নয়ন তহবিল পাওয়ার অধিকার রাখে। তবে বাফুফে প্রকৃতপক্ষে কত অর্থ পাবে, তা নির্ভর করবে শর্ত পূরণ, প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ব্যবহারের যথাযথ হিসাব দেওয়ার ওপর।