ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিক ভারত: প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে ভারতকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং অভিন্ন নদীগুলোর ন্যায্য পানি বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ।রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় দ্বিতীয় করতোয়া সেতু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এ-সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘ফারাক্কা চুক্তি আগামী ১২ ডিসেম্বরে শেষ হবে। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এবং আমার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিভিন্নভাবে আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ইতোমধ্যে কলকাতায় টেকনিক্যাল কমিটির একটা সভা হয়েছে।’চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ফরহাদ হোসেন আজাদ।তিনি বলেন, ‘আমরা আহ্বান করব আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশকে, বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে যে চুক্তিটি করেছিলেন, পানি পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্যারান্টি ক্লজ- সেই গ্যারান্টি ক্লজকে সামনে রেখে আমরা চাই আগামীতে আমাদের এই ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন হবে, সেটাকে বাস্তবায়ন করা হবে।’বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে একপক্ষীয় সমর্থনের কারণে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।তাঁর মতে, ফারাক্কা চুক্তিতে পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং ন্যায্য পানি বণ্টনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের বাস্তব প্রমাণ দিতে পারে।ফারাক্কার পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তজুড়ে থাকা আরও ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।এসব নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারেও ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।দ্বিতীয় করতোয়া সেতু পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবু।এ ছাড়া সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিক ভারত: প্রতিমন্ত্রী