ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গরমে বাড়ে দাদের ঝুঁকি, যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দাদ বা রিংওয়ার্ম বেশ পরিচিত একটি সমস্যা। নামের সঙ্গে ‘ওয়ার্ম’ থাকলেও এটি কোনো কৃমির কারণে হয় না। ডার্মাটোফাইট নামের একধরনের ছত্রাক এই সংক্রমণের জন্য দায়ী।দাদ হলে ত্বকে সাধারণত চুলকানিসহ গোলাকার বা বলয়ের মতো দাগ দেখা যায়। হালকা ত্বকে দাগ লালচে এবং গাঢ় ত্বকে ধূসর, বাদামি বা অন্য গাঢ় রঙের হতে পারে। আক্রান্ত অংশের কিনারা কিছুটা উঁচু বা খসখসে হতে পারে, আর মাঝের অংশ তুলনামূলক পরিষ্কার দেখাতে পারে।ছত্রাক উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে সহজে বাড়ে। তাই কুঁচকি, বগল, ঊরুর ভাঁজ, স্তনের নিচে, পায়ের আঙুলের ফাঁকসহ যেসব জায়গায় ঘাম ও আর্দ্রতা বেশি থাকে, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।কুঁচকিতে ছত্রাক সংক্রমণকে সাধারণত ‘জক ইচ’ এবং পায়ের সংক্রমণকে ‘অ্যাথলেটস ফুট’ বলা হয়। একই ধরনের ছত্রাক মাথার ত্বক, চুল ও নখেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। নখ আক্রান্ত হলে তা মোটা, বিবর্ণ, ভঙ্গুর বা ফেটে যেতে পারে।অতিরিক্ত ঘাম, দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরে থাকা, আঁটসাঁট পোশাক, ত্বকের ভাঁজে আর্দ্রতা জমে থাকা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, কাপড় বা বিছানাপত্র ভাগাভাগি করার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ত্বক পরিষ্কার ও শুকনা রাখা এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি না করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।ডায়াবেটিস বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল থাকলে কিছু ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ জটিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নখের ছত্রাক সংক্রমণের সঙ্গে অন্য সংক্রমণ যুক্ত হলে এসব রোগীর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।দাদের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চুলকানি, খসখসে ত্বক, চামড়া ওঠা, জ্বালাপোড়া ও বলয় আকৃতির দাগ। তবে একজিমা, সোরিয়াসিসসহ বিভিন্ন চর্মরোগেও কাছাকাছি ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই শুধু দাগ দেখে নিজে থেকেই রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক ত্বক বা নখের নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারেন।সংক্রমণের ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী চিকিৎসাও ভিন্ন হতে পারে। সীমিত ত্বকের সংক্রমণে অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা মলম ব্যবহার করা হয়। তবে সংক্রমণ বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, বারবার ফিরে এলে কিংবা মাথার ত্বক ও নখে হলে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। দাদ বা সন্দেহজনক ছত্রাক সংক্রমণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে সাময়িকভাবে লালভাব বা চুলকানি কমলেও সংক্রমণ আরও খারাপ বা বিস্তৃত হতে পারে। অ্যান্টিফাঙ্গাল ও স্টেরয়েড মিশ্রিত ক্রিমও নিজের সিদ্ধান্তে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি।দাদ প্রতিরোধে ত্বক পরিষ্কার ও শুকনা রাখা, নিয়মিত পোশাক বদলানো, ভেজা কাপড় দ্রুত পরিবর্তন করা এবং তোয়ালে, পোশাক বা বিছানাপত্র অন্যের সঙ্গে ভাগ না করা গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে বা চিকিৎসায় না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গরমে বাড়ে দাদের ঝুঁকি, যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি