ফরাসি সিনেটরদের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক
সফররত ফরাসি সিনেটরদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জুলাই সনদ, সংসদীয় কার্যক্রম এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।ফরাসি প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিনেটর গিয়োম শেভ্রিয়েঁ, পিয়ের-আলাঁ রোয়েরোঁ ও অলিভিয়ের হেনো। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এবং ঢাকাস্থ ফরাসি দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ক্রিশ্চিয়ান বেক উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহাদ মাবরুর।বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই বিপ্লবের পর তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতা সম্পর্কে নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।জামায়াতের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর ও টেকসই সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।জুলাই সনদে থাকা অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।জামায়াতের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, সংস্কার কার্যক্রমে বিলম্ব হলে জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। জামায়াতের প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা বাড়ানো, বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংসদীয় চর্চা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন।সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে উঠে আসে।এ সময় বিরোধী দলগুলোর চলমান কর্মসূচি এবং বিশেষ করে লংমার্চের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ফরাসি প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়। জামায়াতের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দাবি আদায়ের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন।জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও আলোচনায় স্থান পায়। জামায়াতের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন কর্মসূচি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর বাড়ানোর আহ্বান জানান।ফরাসি সিনেটররা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।