ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানের পিকঅ্যাক্স পরমাণু স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের কৌশলগত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনায় যেকোনো সময় সামরিক হামলা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন চাইলে মাত্র এক ঘণ্টার নোটিশেই অত্যন্ত সফলভাবে সেখানে পূর্ণাঙ্গ অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) ফক্স নিউজের জনপ্রিয় টকশো ‘হ্যানিটি’-তে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ইরাকভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সফল সামরিক অভিযান ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর পর এবার হয়তো পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করতে হতে পারে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য কোনো জটিল বিষয় নয়; নির্দেশ পেলেই এক ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ্যবস্তুটি তছনছ করে দেওয়া সম্ভব।পূর্ববর্তী বিমান হামলাগুলোর পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, তেহরান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে চরমপন্থী কার্যক্রমে মদদ দিচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই ইরানকে চূড়ান্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কূটনৈতিক দর-কষাকষির টেবিলেও তেহরান বর্তমানে কোনো সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে সর্বাত্মক ‘যুদ্ধ’ হিসেবে মানতে নারাজ ট্রাম্প; তাঁর ভাষায় এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘খুবই সীমিত কিন্তু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আঘাত’।এদিকে ফক্স নিউজে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই সোমবার হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত পরিসরে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন সামরিক বিমানের সম্ভাব্য আকাশসীমা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই কেশমে এই প্রি-এম্পটিভ আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তেহরানের হুমকি প্রতিরোধেও সাম্প্রতিক এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে।ইরানি গণমাধ্যমগুলো কেশম দ্বীপে একাধিক তীব্র বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে। এর বিপরীতে পাল্টা জবাব হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর একটি আধুনিক ও উন্নত নজরদারি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত এবং আরও দুটি ড্রোন অক্ষত অবস্থায় জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।সূত্র: শাফাক নিউজ

ইরানের পিকঅ্যাক্স পরমাণু স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের