ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ায় তিন পুলিশ জেনারেল গ্রেপ্তার

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোনে অবৈধভাবে আড়িপাতার অভিযোগে তিন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত যোগাযোগে নজরদারি, ইলেকট্রনিক সিস্টেমে প্রবেশ এবং সংগৃহীত তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগে তদন্ত চলছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।আটক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ ও সাবেক জাতীয় পুলিশপ্রধান জেনারেল লিস্তিও সিগিত প্রাবোও, জাতীয় পুলিশের আইন বিভাগের প্রধান ইন্সপেক্টর জেনারেল আহরি সোনতা নাসুতি এবং পুলিশ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক ইন্সপেক্টর জেনারেল একো হাদি সান্তোসো।তাঁদের জাকার্তায় জাতীয় পুলিশ সদর দপ্তরের আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।মঙ্গলবার রাতে জাকার্তায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থার প্রধান আসেপ সাফরুদ্দিন জানান, তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য ও আলামতের ভিত্তিতে তিন কর্মকর্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।পুলিশের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও ব্যবসায়ীদের ফোনে অবৈধভাবে আড়িপাতা হয়েছিল।তদন্তকারীদের ধারণা, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। ওই সময়ে লিস্তিও সিগিত প্রাবোও দেশটির জাতীয় পুলিশপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১০ জন সাধারণ সাক্ষী ও তিনজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।তদন্তের অংশ হিসেবে ১১টি মোবাইল ফোন, একটি আইপ্যাড এবং চারটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের পুলিশবিষয়ক বিধিমালায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফোনে আড়িপাতার নির্দেশ দিয়েছিলেন।কয়েকটি ফোন নম্বর প্রয়োজনীয় যাচাই ছাড়াই ‘লফুল ইন্টারসেপশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা এলআইএমএসে যুক্ত করা হয়।পুলিশের দাবি, পরবর্তী সময়ে ওই ব্যবস্থায় সংরক্ষিত কথোপকথনের ফাইল মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য নজরদারির প্রমাণ গোপন করা হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।ইন্দোনেশিয়ার আইন, মানবাধিকার, অভিবাসন ও সংশোধনাগারবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী ইউস্রিল ইহজা মাহেন্দ্র জানিয়েছেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।তবে প্রেসিডেন্ট ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোনে নজরদারির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।আড়িপাতার উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো কিংবা আটক তিন কর্মকর্তার কেউই অভিযোগ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ফৌজদারি আইনের ২৫৮ ধারায় অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছেন ইউস্রিল ইহজা মাহেন্দ্র।এই ধারায় বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক যোগাযোগে আড়িপাতা, রেকর্ড করা, তথ্য পরিবর্তন কিংবা নজরদারির অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।এ ছাড়া ফৌজদারি আইনের ৩৩২ ধারায় অভিযোগ আনা হলে সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।পাশাপাশি দেশটির ইলেকট্রনিক তথ্য ও লেনদেন আইনের ৩২ ধারায় অনুমতি ছাড়া ইলেকট্রনিক তথ্য পরিবর্তন, ধ্বংস, মুছে ফেলা কিংবা গোপন করার অভিযোগে সর্বোচ্চ আট বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। নজরদারির উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা অনুসন্ধান করছেন।সূত্র : আরব নিউজ

প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ায় তিন পুলিশ জেনারেল গ্রেপ্তার