প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে নতুন নীতিমালা
প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাক্রম তৈরির কাজ করছে সরকার।রোববার বিকেলে সিলেট নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের আটটি বিভাগের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগের মাধ্যমে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2556]তিনি বলেন, উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সরাসরি অনুসরণ না করে বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ভিত্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক, সামাজিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন শিক্ষাক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে।ববি হাজ্জাজ জানান, দেশীয় বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।শিক্ষকদের বেতন কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি, খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মাদার্স কমিটি গঠনের উদ্যোগ রয়েছে।তিনি জানান, পরীক্ষামূলক কর্মসূচি সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে সারা দেশে মধ্যাহ্নভোজ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হলে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও সরকারের নীতিমালার আওতায় আনা হবে।[BANGVIEWS-POST:2554]এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাক্রম, শিক্ষকদের যোগ্যতা, অবকাঠামো এবং শিক্ষা বর্ষপঞ্জি নিয়মিতভাবে তদারকি করা হবে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যক্রম চলবে।সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা।অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।