ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

একদিনে ৭৯৭ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারাল ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া যাবে কি না—এমন উদ্বেগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শেয়ারবাজার। এক দিনেই প্রায় ৭৯৭ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত সাত প্রযুক্তি জায়ান্ট।প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, অ্যাপল, মেটা প্ল্যাটফর্মস, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া ও টেসলা। ব্লুমবার্গের হিসাবে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে শুল্কসংক্রান্ত আতঙ্কের পর এই সাত কোম্পানির সম্মিলিত বাজারমূল্যে এটিই সবচেয়ে বড় এক দিনের পতন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুসরণ করা একটি সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।পতনের প্রধান কারণ ছিল অ্যালফাবেট ও টেসলার দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল। আয়ের মৌসুমে ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’-এর মধ্যে প্রথম ফল প্রকাশ করে কোম্পানি দুটি। তাদের বিপুল মূলধনী ব্যয় ও নগদ প্রবাহের পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট বার্ষিক মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ১৯৫ থেকে ২০৫ বিলিয়ন ডলার করেছে। এ অর্থের বড় অংশ এআই অবকাঠামো, সার্ভার ও ডেটা সেন্টারে ব্যয় করা হবে। কোম্পানিটির ক্লাউড ব্যবসায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হলেও বিপুল বিনিয়োগের সুফল পেতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে অ্যালফাবেটের শেয়ার প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে।অন্যদিকে টেসলার শেয়ারদর প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। কোম্পানিটির বিপুল মূলধনী ব্যয়, দুর্বল নগদ প্রবাহ এবং ভবিষ্যৎ এআই ও রোবোটিকস প্রকল্প থেকে আয় আসার সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা এ পতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।প্রযুক্তি শেয়ারের দরপতনের পাশাপাশি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নাসডাক সূচক ২ শতাংশের বেশি এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ শতাংশের বেশি কমে যায়।বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনকে এখনই ‘এআই বাবল ফেটে যাওয়া’ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তবে এআইয়ের সম্ভাবনার গল্পের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা এখন ব্যয়ের বিপরীতে আয় ও মুনাফার স্পষ্ট প্রমাণ চাইছেন। আগামী দিনে অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের ওপরও বাজারের গতিপথ নির্ভর করবে।উল্লেখ্য, বাজারমূল্য কমার অর্থ নগদ অর্থ সরাসরি উধাও হয়ে যাওয়া নয়। শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত মূল্যায়ন ওই পরিমাণ কমেছে।এই প্রতিবেদনটি শুধু তথ্য ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত; এটি কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়।সূত্র: রয়টার্স

একদিনে ৭৯৭ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারাল ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’