ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফেসবুকে স্ত্রীর ছবি পোস্টের জেরে বন্ধুকে হত্যা, প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ এবং তা মুছে ফেলতে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত।কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গলফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। পূর্বপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথায় বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত বাংলাদেশিকে এ সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে অভিযুক্তের স্ত্রীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি ভুক্তভোগী তাঁর নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করার পর থেকেই দুজনের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব ও তিক্ততা শুরু হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই ছবিগুলো অবিলম্বে ডিলিট বা মুছে ফেলার জন্য বারবার অনুনয়-বিনয় ও অনুরোধ করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন তাঁর বন্ধু। এর জেরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বন্ধুকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা আঁটেন অভিযুক্ত।প্রসিকিউশনের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ধারালো ছুরি সংগ্রহ করেন। এরপর তাঁর বন্ধু কর্মস্থলের একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করছেন তা আগে নিশ্চিত হন এবং বাইরে ওত পেতে অপেক্ষা করতে থাকেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কর্মস্থল থেকে বাইরে বেরিয়ে আসামাত্রই অভিযুক্ত অতর্কিতে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যুপরি এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়।আদালতের আনুষ্ঠানিক শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের পুরো দায় অকপটে স্বীকার করেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, বিরোধ শুরুর আগে নিহতের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একবার তাঁর বাসায় বেড়াতে এসে ওই বন্ধু অনুমতি ছাড়াই তাঁর স্ত্রীর ছবি তোলেন এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ছবিগুলো প্রকাশের পর পরিচিত মহলে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য শুরু হয়। ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তা না মেনে বন্ধু পরবর্তীতে আরও কিছু ছবি পোস্ট করেন। এর ফলে তাঁর পরিবারে তীব্র মানসিক অশান্তি ও দাম্পত্য সংকট তৈরি হয়।অভিযুক্ত জানান, পারিবারিক সম্মানহানি ও অশান্তির জেরে তাঁর মধ্যে তীব্র অন্ধ প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব তৈরি হয়েছিল, যার পরিণতিতে তিনি এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। আদালত মামলার সমস্ত তথ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক প্রতিবেদন ও আসামির স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা শেষে এটি ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত আদেশ দেন।

ফেসবুকে স্ত্রীর ছবি পোস্টের জেরে বন্ধুকে হত্যা, প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড