ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জাতীয় নির্বাচনের মতোই উপনির্বাচনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: সিইসি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন। তাঁর দাবি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকার নির্বাচন ভবন থেকে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি।প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার নীতিতে বিশ্বাস করে। এ কারণে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় উপনির্বাচনকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার সুযোগ নেই।তিনি বলেন, ‘পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। এই উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছি না। জাতীয় নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’সিইসি জানান, মাঠপর্যায়ে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও সংস্থাকে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে।নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এসব ব্যবস্থার উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ঘিরে ১১ দলীয় জোটের উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।তিনি দাবি করেন, জোটের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছিল, সেগুলো সমাধান করা হয়েছে।এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন কিংবা ভোটের পরিবেশ নিয়ে নতুন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোট। ওই বৈঠকে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।জোটের নেতারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারির দাবিও জানান।তবে কমিশন সব অভিযোগ নিষ্পত্তির দাবি করলেও জোটের নেতারা এর আগে অভিযোগগুলোর কার্যকর সমাধান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।নির্বাচনী সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কথাও বলেন এ এম এম নাসিরউদ্দিন।তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে সংঘাত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না।সিইসি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা নিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। আমরা সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে উৎসবমুখর নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। দেশে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক নির্বাচনী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।’তাঁর মতে, সব পক্ষের সহযোগিতা থাকলে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এই আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মির্জা ফয়সাল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের দেলাওয়ার হোসেন।ভোট গ্রহণ ও গণনার দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল।প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে কমিশনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় নির্বাচনের মতোই উপনির্বাচনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: সিইসি