ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক

বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতির কারণে অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট বহুমুখী সংকট নিরসনে চীনের জোরালো ও কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের অবহিত করেন।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থানের কারণে দেশের জাতীয় অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা, স্থানীয় জনমিতি এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই মানবিক ও আঞ্চলিক সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে তিনি চীনের আন্তরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে সিপিসি মন্ত্রী লিউ হাইশিং বলেন, বেইজিং রোহিঙ্গা সংকটের গভীরতা ও প্রভাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর গভীর উদ্বেগের বিষয়টি সরাসরি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান। লিউ হাইশিং উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্ববর্তী বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার আলোকে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের অবিচল সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বের মজবুত ভিত্তি রচিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পরই বাংলাদেশে দেশব্যাপী জনপ্রিয় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যা কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় অবদান রাখবে।বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। লিউ হাইশিং বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি বা RCEP)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের পক্ষ থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করা হয়।বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। অন্যদিকে চীনা প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক