পোশাক শ্রমিকদের অসন্তোষ নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক শুরু
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন, মহাসড়ক অবরোধ ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। মন্ত্রিপরিষদ ও সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক করণীয় ঠিক করতে প্রধানমন্ত্রী ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে বৈঠকে ডেকেছেন। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও শিমুল বিশ্বাস। রোববার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকরা। তবে দুপুরের পর কয়েকটি এলাকায় আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। গাজীপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সাভারের আশুলিয়াতেও শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান এবং দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সার্বিক সহিংসতা, ভাঙচুর ও শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বিবেচনায় রাজধানী ঢাকা, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শতাধিক পোশাক কারখানা ছুটি ও বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এর আগে, উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে শিল্পাঞ্চলে কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই পর্যালোচনা বৈঠক পরিচালনা করা হচ্ছে।