পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, বাঁচেননি কেউ
পেরুর বিখ্যাত নাজকা লাইনস দেখতে যাওয়া পর্যটকদের বহনকারী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দক্ষিণ পেরুর নাজকা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানে থাকা ১১ যাত্রী ও দুই পাইলটের কেউই বেঁচে নেই। পেরুর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান মডেলের বিমানটি নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে দর্শনীয় স্থান দেখানোর একটি ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। একপর্যায়ে বিমানটি নাজকা শহরের বাইরে একটি খোলা জায়গায় বিধ্বস্ত হয় এবং এতে আগুন ধরে যায়।দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি পেরুভিত্তিক পর্যটন বিমান সংস্থা এরোডিয়ানার মালিকানাধীন। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে নাজকা লাইনস দেখার জন্য ছোট বিমানে পর্যটন ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। নিহত যাত্রীদের সবাই ইউরোপীয় নাগরিক। তাদের মধ্যে সাতজন ইতালির, দুজন জার্মানির এবং দুজন স্পেনের নাগরিক ছিলেন। নিহত অপর দুজন হলেন বিমানটির পেরুভিয়ান পাইলট ও সহকারী পাইলট।[BANGVIEWS-POST:2934] দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানটির পোড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া উঠতে এবং উদ্ধারকর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা যায়। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত নাজকা লাইনস মূলত পেরুর মরুভূমিতে আঁকা বিশাল আকৃতির প্রাচীন রেখাচিত্র ও নকশার সমষ্টি। প্রাণী, উদ্ভিদ ও জ্যামিতিক আকৃতির এসব নকশা মাটি থেকে পুরোপুরি বোঝা যায় না। এ কারণে পর্যটকেরা ছোট বিমানে চড়ে ওপর থেকে সেগুলো দেখে থাকেন। বিমানটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পেরুর পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগেও নাজকা লাইনস এলাকায় পর্যটকবাহী বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে একই ধরনের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ পর্যটক ও দুই ক্রুসহ সাতজন নিহত হন।সূত্র: রয়টার্স