হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা? কারণ হতে পারে আটকে থাকা গ্যাস
হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা হলে অনেক সময় এর কারণ হতে পারে অন্ত্রে আটকে থাকা গ্যাস। এই ব্যথা কখনো এতটাই বেশি হতে পারে যে মনে হয়, গুরুতর কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হয়েছে।অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও ব্যথা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. কুনাল সুদ জানিয়েছেন, অন্ত্রের ভেতর দিয়ে গ্যাস স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করে। তবে কোনো কারণে গ্যাস সাময়িকভাবে আটকে গেলে তা অন্ত্রের দেয়ালে চাপ সৃষ্টি করে এবং পেটের ভেতরে অস্বস্তি ও ব্যথার সৃষ্টি করে।[BANGVIEWS-POST:4007]তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আটকে থাকা গ্যাস অন্ত্রকে অনেকটা অতিরিক্ত বাতাসে ফুলে যাওয়া বেলুনের মতো প্রসারিত করে। এর ফলে ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ু সক্রিয় হয়ে যায়। তখন পেটে মোচড়, পেট ফাঁপা এবং চাপের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, অন্ত্রের ভেতরে গ্যাস চলাচল করতে থাকায় ব্যথার স্থানও পরিবর্তন হতে পারে। কখনো পেটের এক অংশে, আবার কখনো অন্য অংশে ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক সময় ব্যথা ঢেউয়ের মতো আসা-যাওয়া করে।সাধারণত গ্যাস আবার চলাচল শুরু করলে ব্যথাও ধীরে ধীরে কমে যায়। আটকে থাকা গ্যাসের অস্বস্তি কমাতে কয়েকটি সহজ উপায় কার্যকর হতে পারে।এর মধ্যে রয়েছে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা, হালকা শারীরিক নড়াচড়া করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজন হলে মলত্যাগ করা। এসবের মাধ্যমে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়।[BANGVIEWS-POST:4006]তবে সব ধরনের পেটব্যথাকে গ্যাস বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, ব্যথা খুব বেশি হলে বা দীর্ঘ সময় ধরে না কমলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।বিশেষ করে পেটব্যথার সঙ্গে জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী বমি, মলের সঙ্গে রক্ত, অথবা পেট শক্ত ও অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।কারণ এসব লক্ষণ শুধু গ্যাস নয়, বরং অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই তীব্র বা স্থায়ী পেটব্যথার ক্ষেত্রে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।