ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও গাজার মতো হতো: পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে তার দেশের পরিণতি গাজার মতোই হতো। মঙ্গলবার তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সফরকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করত। তখন তারা বৃদ্ধ বা তরুণ—কাউকেই রেহাই দিত না।”[BANGVIEWS-POST:509]তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো অবস্থাতেই, কখনো, কারও সঙ্গে আলোচনা করব না।”এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো উল্লেখ ছিল না।বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা কাঠামোর মধ্যে এই কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিল।১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দুর্বল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে এর পরিসর, পাল্লা ও নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের এই কর্মসূচিকে তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও ছিল এই কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে।[BANGVIEWS-POST:508]
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জি৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এসব অস্ত্র থাকে, তাহলে কিছু দেশের কাছে একেবারেই না থাকা কিছুটা অন্যায্য।”