ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে আয়োজিত হচ্ছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো-ঢাকা’

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো এবং স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরাসরি ব্যবসায়িক সংযোগ গড়ে তুলতে আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো-ঢাকা ২০২৬’। রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিগ ওয়েভ) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী আয়োজিত হবে।মেলার প্রস্তুতি উপলক্ষে রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন চেম্বার প্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। সভায় ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো সফলভাবে এই এক্সপোর সূচনা হয়েছিল। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে এটি একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এবারের আসরে গতবারের ৮টি খাতের পরিধি বাড়িয়ে ১২টি সম্ভাবনাময় খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০০টিরও বেশি স্টলে দেশীয় উদ্যোক্তারা তাঁদের বৈচিত্র্যময় পণ্য প্রদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে রূপ দিতে প্রদর্শনী চলাকালে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনেস) বৈঠক, অনলাইন ম্যাচমেকিং পোর্টালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সরাসরি কারখানা পরিদর্শনের (ফ্যাক্টরি ভিজিট) বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরতে ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও উদ্যোগ থাকছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে নিবন্ধিত ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত হোটেলে বিশেষ মূল্যছাড় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে।মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা মানসম্মত পণ্য নির্বাচন, আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড বজায় রাখা এবং মেলা শেষ হওয়ার পরও ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবসায়িক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন। নারী উদ্যোক্তা ও এসএমই খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা নারী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বুথ স্পনসরশিপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া প্লাস্টিক, হিমায়িত খাদ্য, মৎস্য, পাটজাত পণ্য, আসবাবপত্র ও ওষুধ খাতের প্রতিনিধিরা রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের আহ্বান জানান।ইউরোপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মতো অপ্রচলিত বাজারে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরির তাগিদ দেন অংশীজনেরা। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সক্রিয় সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি আদেশ আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমঞ্চে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে আয়োজিত হচ্ছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো-ঢাকা’