ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:1654]দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন অবস্থান করছেন।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানকার ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ। জেলাটিতে ১৩ জনের মৃত্যু ও ১২ জন আহত হয়েছেন। ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ২১ হাজার ৯০০ মানুষ।কক্সবাজারে ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত ২৪ জনের মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।[BANGVIEWS-POST:1649]বান্দরবানে ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮৩ হাজার ৫০০ মানুষ। জেলাটিতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন দুজন।রাঙামাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪। সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত এবং একজন আহত হয়েছেন।মৌলভীবাজারে ৭ হাজার ৩০৮টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৫৪৪ জন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে পানিবন্দী হয়েছে ৬ হাজার ৪৪৪টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ১৪০ জন।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলার জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় এবং ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ