আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশকে পিটিয়ে পালাল দুর্বৃত্তরা
ঠাকুরগাঁওয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৭ জন নেতাকর্মীর নিয়মিত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর আসামিদের পুলিশি পাহারায় হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত রবিউল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, আসামিদের আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় সিভিল পোশাকে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি হঠাৎ তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এতে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আকতারুল ইসলামসহ এজাহারনামীয় ২০ জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, পীরগঞ্জের ভাকুরা ধনীপাড়া গ্রামে আকতারুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। মামলার এজাহারভুক্ত ২০ জন আসামির মধ্যে ১৭ জন পূর্বে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেছিলেন। জামিনের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁরা মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা কোনো গোপন বৈঠক বা নাশকতার সঙ্গে জড়িত নন। মামলায় আলামত হিসেবে উপস্থাপিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (ফেসবুক) স্ক্রিনশট ও ছবিতে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই; এগুলো পুরোনো অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়ে থাকতে পারে। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে তাঁরা উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবেন।