ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ।নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে সই করেন। বিষয়টি রেহান আসাদ নিশ্চিত করেছেন।সমঝোতা অনুযায়ী, দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।দুই দেশ নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।সমঝোতায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকলের আওতায় রয়েছে। দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি (এনপিটি)-র পক্ষভুক্ত।দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির উৎস বাড়ানো ও বৈচিত্র্য আনার বাংলাদেশের প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সমঝোতা হলো। দেশে রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।এর আগে চলতি বছরের মে মাসে জ্বালানি খাতে বৃহত্তর সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল বাংলাদেশ। ওই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা।তবে এবারের সমঝোতার মূল বিষয় সাধারণ জ্বালানি বাণিজ্য নয়। এটি বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং এ খাতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা