আগস্টের শেষে রূপপুর থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আগামী আগস্টের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।[BANGVIEWS-POST:803]মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ পরিকল্পনা, নির্মাণকাজ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এখন চূড়ান্ত কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এই ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। এ পর্যায়ে প্রতিটি কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।তিনি বলেন, সব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও রূপপুর প্রকল্প সহায়ক হবে।[BANGVIEWS-POST:800]পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করবে।