ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে ৭ শর্তে নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব ইরানের

উপসাগরীয় মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার আগে ওয়াশিংটনকে তেহরানের দেওয়া সুনির্দিষ্ট সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ চাঞ্চল্যকর কূটনৈতিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তা।ওই কর্মকর্তা জানান, কাতারের মাধ্যমে পৌঁছানো তেহরানের প্রস্তাবটি বর্তমানে ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত রূপরেখা বা অভ্যন্তরীণ শর্তাবলির পূর্ণ বিবরণ তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেননি।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক সংঘাত নতুন করে বিস্তৃত হওয়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধে কাতারসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। বিপরীতে তেহরানও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে নতুন করে আগ্রাসন শুরু হলে তারা আরও বহুগুণ বড় পরিসরে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালাবে।এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরকালে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই তেহরানের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানান, কূটনৈতিক টেবিলে বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্যতামূলকভাবে সাতটি পূর্বশর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করবে না ইরান এবং কোনো ধরনের সমঝোতা বৈঠকেও বসবে না।জানা গেছে, ইরানের উত্থাপিত সাতটি মূল শর্তের মধ্যে প্রধান হলো—ইরানের ওপর আরোপিত সকল মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে রাখা তেহরানের সমুদয় আর্থিক সম্পদ ও রিজার্ভ মুক্ত করে দেওয়া এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান হলো, যেকোনো প্রাথমিক কূটনৈতিক আলোচনা বা শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরানের সমৃদ্ধ পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। পরবর্তীতে লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এমন সংকটের মুখে কাতারের মাধ্যমে পাঠানো এই নতুন প্রস্তাব যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে এক নতুন কূটনৈতিক মোড় তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।সূত্র: রয়টার্স 

কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে ৭ শর্তে নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব ইরানের