ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে পারমাণবিক জ্বালানি কেন্দ্রে নেওয়া হয়।এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিশেষ বিমানে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে। শনিবার ভোর ৩টার দিকে তিনটি লরি বিমানবন্দর ছেড়ে রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া এবং পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।পুরো পরিবহন কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্ত ছিলেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ইউনিটের পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনা হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রাশিয়া থেকে সাতটি ফ্লাইটে আরও পারমাণবিক জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ শেষ করতে চায়।দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এর আগে দ্বিতীয় চালানটি ২১ অক্টোবর এবং প্রথম চালানটি ২৭ অক্টোবর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চালানের ক্রম ও তারিখের এই বর্ণনায় অসংগতি রয়েছে; প্রকাশের আগে তা যাচাই করা প্রয়োজন।রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন প্রথম চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছায়। একই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি স্থাপন করা হয়।পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর পর প্রথম ইউনিটে ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য গত ৩ অক্টোবর অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান আনা হয়।চুক্তি অনুসারে, প্রথম তিন বছর রাশিয়া বাংলাদেশকে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে জ্বালানি আমদানি করতে হবে। দুটি ইউনিট চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এদিকে, শুক্রবার প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম উত্তপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান