পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলীয় ভাঙন ও বিদ্রোহের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছেন দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলের সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর শনিবার মমতা এই দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে গত মাসে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দলের ভেতরে বিভক্তি ও রাজ্য দপ্তর ঘিরে টানাপোড়েনের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগকে তৃণমূলের চলমান সাংগঠনিক সংকটের বড় প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। [BANGVIEWS-POST:1193]চন্দ্রিমার পদত্যাগের পর মমতা জানান, আপাতত তিনিই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন। একই সঙ্গে কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় ভাঙন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তোলেন। এর আগে কলকাতায় তৃণমূলের ভাড়া করা রাজ্য দপ্তর ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। মমতা অভিযোগ করেন, বিদ্রোহীরা দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। হাওড়া জেলা পরিষদেও বিদ্রোহী তৃণমূলের তৎপরতার খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রথমবারের মতো শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুভেচ্ছার পাশাপাশি তিনি রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। মমতা বলেন, ক্ষমতার প্রয়োগে সংযম রাখা উচিত, কারণ রাজনৈতিক অত্যাচারের প্রতিক্রিয়া একদিন ফিরে আসতে পারে।[BANGVIEWS-POST:1191]তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোন অংশ আসল তৃণমূল, তা জানতে দুই পক্ষের কাছেই বক্তব্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। মমতা বলেছেন, প্রতীক হারালেও মানুষের সমর্থন থাকলে রাজনৈতিক লড়াই থামানো যাবে না। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া