ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দেশের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: পর্যটনমন্ত্রী

বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই পর্যটনের আলাদা সম্ভাবনা রয়েছে। নদী, পাহাড়, সমুদ্র, বন, চা-বাগান, জলাভূমি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, পরিকল্পিত উপায়ে এসব পর্যটন আকর্ষণকে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে।তিনি জানান, পর্যটনকে কয়েকটি প্রচলিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকর্ষণকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা বলেও জানান তিনি।সুন্দরবনকে ঘিরেও পর্যটন খাতে বড় ধরনের উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। পিপিপি মডেলের মাধ্যমে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, পর্যটন উন্নয়ন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ খাতের সম্ভাবনা আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে। বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে। মেলায় প্রায় ৩০০টি বুথ রয়েছে।

দেশের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: পর্যটনমন্ত্রী