ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যস্ত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার নানার বাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সড়ক মেরামত, সভাস্থল প্রস্তুত, সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও।পূর্বনির্ধারিত ১৭ সেপ্টেম্বরের সফর পিছিয়ে আগামী ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো, প্রস্তুতি সভা এবং জনসভা সফল করার নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর নির্ধারিত হওয়ার পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন সভাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন ভেন্যু ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী।শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও পরিদর্শন করেছে।প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি সামনে আনছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। এর মধ্যে ফেনীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালু এবং ভারতের দখলে থাকা মুহুরি চরের জমি উদ্ধারের দাবিও রয়েছে।ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালু এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইতোমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে।জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরটি স্থগিত করা হলেও ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফেনী আগমন করবেন।’এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের মুহুরি নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।এ ছাড়া পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, ‘সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সফরে পার্শ্ববর্তী ফুলগাজীর শ্রীপুর নানার বাড়িতে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এরপর ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে ওই দিন বিকেলে ফেনীবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।’সফরের শুরুতে জেলার পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বৃহত্তর এলাকার মানুষ এ প্রকল্পের সুফল পাবেন বলে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।এর আগে ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরি ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।সফরকালে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।এ ছাড়া তিনি তার নানার বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে দলীয় নেতাকর্মী ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।ফুলগাজী সরকারি হাইস্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওই জনসভাস্থল থেকে ফুলগাজীকে দেশের নতুন পৌরসভায় উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে ফেনী জেলার ছয় উপজেলায় ছয়টি পৌরসভা হবে।এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার পৈতৃক বাড়ি ও নির্বাচনি এলাকা ফুলগাজীকে থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ১৯৯৩ সালে লোকসানের কারণ দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর দাবিও জানাবেন বিএনপি নেতারা। রেলপথটি চালু হলে জেলার উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে তারা মনে করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যস্ত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা