ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পাঁচ দশকে যমুনা-পদ্মা-গঙ্গায় হারিয়েছে ঢাকার পাঁচ গুণ জমি

গত পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর ভাঙনে দেশের প্রায় ১ হাজার ১৫৩ বর্গকিলোমিটার জমি স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে। এই আয়তন পুরো ঢাকা শহরের প্রায় চার গুণ।পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে।সংগৃহীত ছবিগবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই তিন নদী মিলে প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ বর্গকিলোমিটার জমি ভেঙে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৩৩ বর্গকিলোমিটার জমি আবার নতুন চর হিসেবে জেগে উঠেছে।সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে যমুনা নদীতে। গত পাঁচ দশকে নদীটি প্রায় ৯৪২ বর্গকিলোমিটার জমি ভেঙেছে, যা মোট ভাঙনের প্রায় ৬০ শতাংশ। একই সময়ে গঙ্গা ৩০২ দশমিক ৯ বর্গকিলোমিটার এবং পদ্মা ৩৩৮ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন করেছে।নদীভাঙনে শুধু জমিই হারাচ্ছে না মানুষ, হারাচ্ছে ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্থায়ী ঠিকানা। বারবার ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার বাধ্য হচ্ছে শহরমুখী হতে। ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।সংগৃহীত ছবিঅভিবাসন গবেষকদের মতে, নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ ঢাকার নিম্নাঞ্চল ও বস্তি এলাকায় আশ্রয় নেয়। সেখানে তারা দিনমজুরি, রিকশা চালানো বা অনিয়মিত বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়।তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীভাঙনের হার কিছুটা কমেছে। ১৯৮০-এর দশকে যমুনায় বছরে গড়ে প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার জমি ভাঙলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১৫ বর্গকিলোমিটারে।সংগৃহীত ছবি২০২৫ সালে যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গা মিলিয়ে মোট ভাঙনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটার।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীভাঙনের প্রভাব শুধু ভূমি হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করছে। নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষ এখনো অপেক্ষায় থাকেন, কখন তাদের হারানো জমি আবার চর হয়ে ফিরে আসবে।

পাঁচ দশকে যমুনা-পদ্মা-গঙ্গায় হারিয়েছে ঢাকার পাঁচ গুণ জমি