জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান।কারামুক্তির খবরে সকাল থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জড়ো হন। দলের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কারা ফটক দিয়ে বেরিয়ে আসার পর দলীয় নেতাকর্মীরা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানান। এক মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর তাঁর মুক্তিতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে মুক্তি পাওয়ার পর কারাফটকে তিনি বা দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর সকালে পবিত্র মদিনা শরিফ থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। লাগেজ সংগ্রহের সময় প্রয়োজনীয় ট্রলির তীব্র সংকট এবং জমজমের পবিত্র পানি পাওয়ার বিলম্ব নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে দায়িত্বরত বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের বাক্বিতণ্ডা ও একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।এ ঘটনার জের ধরে বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।পরদিন ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে গত ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নিম্ন ও দায়রা আদালতে দফায় দফায় জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে তাঁর জামিন আদেশ আসে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করলেন।