ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল নিয়ে সংশয় নেই: নির্বাচন কমিশন

বিদেশি হস্তক্ষেপ ও ভোট কারচুপির নানা অভিযোগের মধ্যেই অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ (নেসেট) নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নিজেদের চূড়ান্ত ও অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। কমিশন সাফ জানিয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচন সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘোষিত ফলাফল মূলত দেশের সাধারণ ভোটারদের মতামতেরই প্রতিফলন। ফলে চলমান কোনো তদন্তের কারণেই নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় নেই।রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি, নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারা।নির্বাচনে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে কাতার কিংবা তুরস্ক অবৈধ অর্থ ঢালার চেষ্টা করেছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর সোলবার্গের নির্দেশনায় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে শিন বেত। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, এই তদন্তের পরিধি অত্যন্ত সীমিত এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল বা আসন বণ্টনের কোনো সম্পর্ক নেই। সোলবার্গ বলেন, অভিযোগ গুরুতর বলেই তদন্ত করা হচ্ছে, তবে শুধু সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে রায় পাল্টানো যায় না। নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করতে হলে অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, বর্তমানে যে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে তা দিয়ে পুরো নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি; এমনকি বিদেশি অর্থায়নের সত্যতা মিললেও সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হবে না।পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং আগামী সপ্তাহে নতুন সংসদ নেসেটের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।তবে নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। দলটির দাবি, শিন বেতের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া অত্যন্ত বিস্ময়কর। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট পেয়েছে ৬৭টি আসন (যেখানে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১ আসন)। লিকুদের অভিযোগ, মাত্র ৪ হাজার ৬১২ ভোটের ব্যবধানে একটি আসন এদিক-ওদিক হলে পুরো রাজনৈতিক চিত্রই পাল্টে যেত। অপরদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট ইসির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে লিকুদ দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের বৈধতা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।এদিকে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে দেশটিতে তীব্র সামাজিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী দুই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরববিরোধী উসকানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল ২৯ অক্টোবরই এ সংক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি বিদ্বেষমূলক ও ভুয়া কারচুপির পোস্ট রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের দিন ভোট কেনাবেচার অভিযোগে আটক হওয়া আরব দল রা'আম-এর তিন কর্মীর মধ্যে দুজনকে আদালত মুক্তি দিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগসূত্র এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল নিয়ে সংশয় নেই: নির্বাচন কমিশন