ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনে ১১ মামলা, জরিমানা সাড়ে ১৪ লাখ

নিরাপদ খাদ্য আইন অমান্য করার অভিযোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বিএফএসএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এসব অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।রাজধানীতে অভিযানের সময় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।ঢাকার বাইরে ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে মোট আট লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ছয়টি মামলা করা হয়েছে।অভিযানে লেবেলবিহীন খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে ব্যর্থ হওয়া এবং খাদ্য তৈরিতে অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং ব্যবহারের মতো অনিয়ম শনাক্ত হয়।পাশাপাশি কয়েকটি উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি, খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় খাদ্য সংরক্ষণের অনুপযোগী পাত্রে রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগ পাওয়া যায়।এদিকে গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের মৌচাক বেকারিতে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী।নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে বিএফএসএ।গত সাত দিনে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।এসব তদারকিতে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবেশন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্যসংক্রান্ত বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।এ ছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি, রিলস ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দিতে নিয়মিত তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, আইনগত ব্যবস্থা, খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও জানান, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান অভিযান, তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত এবং গতিশীল করা হবে বলেও জানিয়েছেন বিএফএসএ চেয়ারম্যান।

নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনে ১১ মামলা, জরিমানা সাড়ে ১৪ লাখ