যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করার আহ্বান নারীপক্ষের
যৌনকর্মীদের নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে নারী অধিকারবিষয়ক সংগঠন নারীপক্ষ। সংগঠনটির মতে, যৌনকর্মকে মানব পাচারের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। বরং এ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারীপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে যৌনকর্মের অপরাধমুক্তকরণবিষয়ক এক অধিবেশনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।অধিবেশন পরিচালনা করেন সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার (সোয়াসা) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন।আলোচনায় জান্নাত হুসনা বলেন, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে অধিকার দেওয়ার সঙ্গে মানব পাচার বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। যৌনকর্ম এবং মানব পাচার দুটি ভিন্ন বিষয়।তিনি বলেন, বিভিন্ন বাস্তবতায় যাঁরা যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাঁদের নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।যৌনকর্মের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করে জান্নাত হুসনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সম্মতিদানকারী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকে যৌনকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া এবং সম্মতি থাকা জরুরি।অন্যদিকে সম্মতি ছাড়া জোরপূর্বক যৌনসেবা গ্রহণ, শোষণ কিংবা নিপীড়নের মতো কর্মকাণ্ড যৌন শোষণের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।গণমাধ্যমে যৌনকর্মীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন জান্নাত হুসনা।তিনি বলেন, সংবাদে এমন শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়, যা যৌনকর্মীদের মর্যাদাহানি করে। তাঁদের সম্পর্কে নেতিবাচক বা অবমাননাকর শব্দের পরিবর্তে সম্মানজনক ও সংবেদনশীল ভাষা ব্যবহার করতে হবে।এ ক্ষেত্রে ‘পতিতা’ শব্দের পরিবর্তে ‘যৌনকর্মী’ এবং ‘বেশ্যাপল্লি’র পরিবর্তে ‘যৌনপল্লি’ শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।অধিবেশনে প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন বলেন, যৌনকর্মী ও অন্য নাগরিকদের মধ্যে নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। তাঁরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং সমান মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী।তিনি বলেন, সমাজে যৌনকর্মীদের প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে অপরাধপ্রবণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের ঘিরে নানা নেতিবাচক ধারণা ও সামাজিক কলঙ্ক তৈরি করা হয়।অথচ সমাজে আরও গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলেও সেগুলো নিয়ে একই ধরনের আলোচনা দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।জাহানারা খাতুন যৌনকর্মীদের প্রথমে মানুষ ও নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে একে অপরের পাশে থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।