ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

১৪২ রানে অলআউট বাংলাদেশ, জয়ের জন্য উইন্ডিজের প্রয়োজন ১৭০

মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার আগে ১৬৯ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একপ্রান্ত আগলে রেখে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন নাঈম হাসান।চতুর্থ দিনের শেষ ব্যাটার হিসেবে রস্টন চেজের বলে ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আউট হন নাঈম। ৫২ রান করে সাজঘরে ফেরার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান করেন তিনি। তার এই ইনিংসটি টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি। শরিফুল ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৭ রানে।ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক রস্টন চেজ। তিনি পাঁচটি উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার চার উইকেট, অন্যদিকে শামার জোসেফ পেয়েছেন একটি উইকেট।এর আগে বাংলাদেশের নবম উইকেট হিসেবে ফেরেন তাইজুল ইসলাম। চেজের বলে প্যাডে আঘাত লাগলে আবেদন করেন ক্যারিবীয়রা, তাতে সাড়া দেন আম্পায়ার। এক চারের সাহায্যে ৮ রান করেন তাইজুল। এরপর নাঈমকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন হাসান মাহমুদ। তবে ওয়ারিক্যানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ৮ রানেই থামতে হয় তাকে।সপ্তম উইকেট হিসেবে সাজঘরে ফেরেন আগের দিনের ব্যাটারদের একজন। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। এর ঠিক আগের বলেই কাভার ড্রাইভে চার মেরেছিলেন। তবে পরের বলেই ক্যাচ তুলে দিলে বাংলাদেশের সংগ্রহে আর রান যোগ করার সুযোগ পাননি।এর আগে তৃতীয় দিন আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ হয়। সেদিন মোট ৬৩ ওভার খেলা হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং করে ৩৪ ওভার, বাংলাদেশ ২৯ ওভার। ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা ক্যারিবীয়রা সব উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।তবে দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিক ব্যাটাররা। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ২৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান করে বাংলাদেশ। এতে লিড দাঁড়ায় ১০৬ রানে। জাকের আলী ও নাঈম হাসান ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ৯ রান করে ওয়ারিক্যানের বলে বোল্ড হন। তার আগে একই বোলারের বলে লেগ বিফোর হয়ে ৪ রানে ফেরেন লিটন কুমার দাস।তৃতীয় দিনের শেষ দিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। প্রথম ইনিংসে তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন চেজ, দুটি ওয়ারিক্যান এবং একটি শামার জোসেফ।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৭২ রানের জবাবে একসময় ৫ উইকেটে ২১৩ রান তুলে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শেষ দিকে নাঈম হাসানের স্পিনে ছন্দ হারায় সফরকারীরা। তিনি চারটি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম পান দুটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ২৪৫ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।ক্যারিবীয়দের হয়ে ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেন ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে বাংলাদেশের বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেন তিনি। ১৮৪ বল মোকাবিলা করে ৫৬ রান করেন এই ব্যাটার। শরিফুল ইসলামের বলে এজ হয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস। চন্দরপল ফিরলে ভাঙে ৬৫ রানের জুটি। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১৬২ রানে ৫ উইকেট।লাঞ্চের ঠিক আগে নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন জাস্টিন গ্রেভস। মাত্র চার রানের জন্য অর্ধশতক হাতছাড়া হয় তার; করেন ৪৬ রান। স্বীকৃত ব্যাটারদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন অধিনায়ক রস্টন চেজ। তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে।

১৪২ রানে অলআউট বাংলাদেশ, জয়ের জন্য উইন্ডিজের প্রয়োজন ১৭০