ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

খুলনায় চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর, হাসপাতালে মৃত্যু

খুলনায় চুরির অভিযোগ তুলে মারধরের পর মো. আজমুল হোসেন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে মারধরের ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।নিহত আজমুল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।ঘটনাস্থলে উপস্থিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর দাবি, খাবার ও বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে আজমুলকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পোশাক, জুতা ও টাকা নেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছিলেন বলেও ওই ব্যক্তি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে লাউডস্পিকারে আজমুলের বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। পরে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আজমুলের বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে পরদিন খুলনায় আসতে বলেন।আজমুলের পরিবার অভিযোগ করেছে, মারধরের পর তার বাবার কাছে ফোন করে কথিত চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল।আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন জানান, রাতে ফোন করে তাকে একটি ঘটনার কথা জানানো হয় এবং এক লাখ টাকা চাওয়া হয়। তিনি ছেলেকে তাদের হেফাজতে রাখতে বলে পরদিন আসার কথা জানান। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।শনিবার সকালে খুলনায় পৌঁছানোর পর ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন কুতুবউদ্দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি ঘটনা সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী তথ্য পান। কেউ তাকে মারধরে মৃত্যুর কথা জানান, আবার কেউ ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার কথা বলেন।হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার এক পাশের চুলও কাটা অবস্থায় দেখা গেছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা মৃত্যুর পর দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন বলেও জানা গেছে।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন জানান, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা মারধরে অংশ নিয়েছিলেন এবং আজমুলের মৃত্যুর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা কতটুকু—এসব বিষয়ে পুলিশি তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

খুলনায় চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর, হাসপাতালে মৃত্যু