ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাশিয়ার পর ইসরায়েল ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বস্ত বন্ধু: নতুন সমীক্ষা

ভারতের হিন্দি বলয়ের তরুণ প্রজন্মের কাছে রাশিয়ার পরেই দ্বিতীয় সবচেয়ে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল। ‘ইন্ডিয়া-ইসরায়েল সেন্টার’-এর সাম্প্রতিক এক নতুন জনমত সমীক্ষায় এমন চাঞ্চল্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য হিন্দি হার্টল্যান্ড ভিউ: হোয়ার ইসরায়েল স্ট্যান্ডস এমং ইন্ডিয়াস পার্টনার্স ইন দ্য হিন্দি হার্টল্যান্ড’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া তরুণদের বড় একটি অংশ যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন।প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলকে ভারতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সুহৃদ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। একই সাথে ৫৭ শতাংশ তরুণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে সংকটকালে ইসরায়েল সবসময়ই ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে এই দুই বিভাগেই শীর্ষস্থানটি এখনো মস্কোর দখলেই রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অবদান রাখার ক্ষেত্রে ইসরায়েল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থাৎ ৪২ শতাংশ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এমনকি সাধারণ আস্থার পরিমাপে রাশিয়া ও জাপানের পরেই তৃতীয় অবস্থানে (৫৭%) জায়গা করে নিয়েছে দেশটি, যা আমেরিকা, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের মতো পরাশক্তি ও উন্নয়ন সহযোগীদের চেয়েও এগিয়ে।২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরাখণ্ড—ভারতের এই পাঁচটি প্রধান হিন্দিভাষী রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১ হাজার ২৩ জন তরুণের ওপর সরাসরি ও অনলাইন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সমীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ৪২ কোটি মানুষ এই অঞ্চলগুলোতে বসবাস করেন। গবেষণায় স্পষ্ট দেখা গেছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্পর্কে অবগত তরুণদের ৭৫ শতাংশই ইসরায়েলকে সরাসরি বিশ্বাস করেন; পক্ষান্তরে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এই আস্থার হার ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আবার সচেতন উত্তরদাতাদের ৮৩ শতাংশই মনে করেন প্রতিরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তেল আবিবের কৌশলগত সমর্থন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলকে উন্নত প্রযুক্তির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী মে মাসের নগরভিত্তিক জরিপের (৫১%) তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের বস্তি ও কনৌজ এবং বিহারের বৈশালী ও নালন্দায় গড়ে ওঠা ‘ইন্দো-ইসরায়েল এগ্রিকালচারাল প্রজেক্ট’-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সগুলো ড্রিপ সেচ ও আধুনিক চাষাবাদ ছড়িয়ে দিয়ে প্রান্তিক কৃষিতে বৈপ্লবিক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে সর্বোচ্চ ৯১ শতাংশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী এলাকা বারাণসীতে ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলের প্রতি ব্যাপক আস্থা জানিয়েছেন। কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণ খাতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় শ্রমিকের ইসরায়েলে কর্মসংস্থান এই ইতিবাচক মানসিকতা তৈরিতে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে যুগান্তকারী দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা বহুদূর এগিয়েছে। পরিশেষে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী ৫০ শতাংশ তরুণই ভবিষ্যতে তেল আবিবের সাথে নয়াদিল্লির কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার জোরালো মত দিয়েছেন, যেখানে প্রযুক্তিগত সুবিধা ও কাজের সুযোগই তাদের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

রাশিয়ার পর ইসরায়েল ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বস্ত বন্ধু: নতুন সমীক্ষা